দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারি বিমান উড়েছে। এ ঘটনায় বিমানটিকে পুরো সময় পর্যবেক্ষণ করেছে চীনের সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পি-৮এ পোসাইডন বিমানটি তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করে। যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর জানিয়েছে, এ যাত্রা ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রমাণ’।
চীনের রাষ্ট্রসমর্থিত গ্লোবাল টাইমস এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চীনা সামরিক বাহিনী পুরো সময় মার্কিন বিমানটির গতিবিধি অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
চীন ও গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে পৃথককারী এই জলপথ দিয়ে কয়েক মাস পরপর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক বিমান চলাচল করে। এ ধরনের তৎপরতায় বরাবরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।
আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন শি জিনপিং। তাইওয়ান ইস্যু, বাণিজ্য বিরোধ ও প্রযুক্তি খাতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে দুই দেশ।
সপ্তম নৌবহর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাইওয়ান প্রণালিতে চলাচলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে এই বিমান চলাচল মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রমাণ। আন্তর্জাতিক আইন যেখানে অনুমতি দেয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উড়ে, নৌযান চালায় এবং কার্যক্রম পরিচালনা করে।’
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির ওপর নিজেদের এখতিয়ারের দাবিও করে বেইজিং। তবে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।
তাইওয়ান ইস্যুকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং জাতীয় স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করে চীন। বেইজিং বারবার বলেছে, এটি এমন একটি ‘লাল রেখা’, যা অতিক্রম করা বা লঙ্ঘন করা যাবে না।
অন্যদিকে তাইওয়ানের সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের।
/অ